Published : 03 Aug 2026, 03:17 PM
চট্টগ্রামের রাউজানের বুকে এক ভয়াবহ ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. দিদার আলম ও আবছার মিয়া। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই দুই ব্যক্তিই সরাসরি হত্যার কাজে অংশ নিয়েছিল। গতকাল রোববার জেলার সীতাকুণ্ড এলাকা থেকে এই দুই সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশ। এদের মধ্যে দিদার ও আবছার নামের এই ব্যক্তিরা পরিচিত 'সন্ত্রাসী' মোহাম্মদ রায়হানের অনুসারী হিসেবে। এর আগে এই মামলার অন্য এক অভিযুক্ত সন্ত্রাসী ধামা ইলিয়াসকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম আজ সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, রাউজানের মাসুদ হত্যা মামলায় সরাসরি অংশগ্রহণকারী অস্ত্রধারী দিদার ও আবছারকে সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। দিদারের বিরুদ্ধে তেরোটি এবং আবছারের বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং কার নির্দেশে এই ঘটনা ঘটেছে, তা বর্তমানে তদন্তাধীন। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৩ জুন বেলা প্রায় দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে মাসুদুল হক চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত মাসুদুল হক চৌধুরী ছিলেন পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। পরিবারের দাবি, পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। এই হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর ১৫ জুন নিহত ব্যক্তির বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা দায়ের করেন।
এই মামলায় বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী মোহাম্মদ রায়হান, মোহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ মোবারক, দিদারুল আলম, মোহাম্মদ ইউসুফসহ মোট এগারো জনের নাম এবং আরও আটজন অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে এজাহারে। মামলার তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ফুটেজে দেখা গেছে, হত্যার সময় পাঁচজনের মধ্যে একজনের মুখে কালো মুখোশ ছিল। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে এই ফুটেজ দেখে অস্ত্রধারী ও হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। আরও জানা গেছে, হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুটি ভিন্ন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল আরও তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, গত ১০ জুলাই হাটহাজারীর মেখল এলাকায় নুরুল আজিমকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী দিদার আলমকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর কাছ থেকে একটি কিরিচ ও রামদা উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও ৩০ জুলাই মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার মামলায় মো. বোরহান ও রনি নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ, যাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও নয়টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।।
শরীয়তপুরে নৃশংসতার শিকার গৃহবধূ: স্বামীকে বেঁধে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশ আটক তিনজনকে